BusinessNews

আর্থিক ঘাটতি ৬.৬২ লক্ষ কোটি,দিশাহারা মোদী সরকার

নরেন্দ্র মোদী সরকারের আর্থিক ঘাটতি অনেকটাই বেড়েছে করোনা সংক্রমণে জন্য। আবার অন্যদিকে, করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বাড়ছে খরচের পরিমাণ দিনে দিনে।লকডাউন এর ফলে অনেক ব্যবসা বন্ধের দিকে। আর এর ফলেই কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক ঘাটতি ক্রমশ বেড়েই চলেছে । সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে রাজকোষে ঘাটতির ( fiscal deficit ) পরিমাণ ৬ লক্ষ ৬২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়ে ঘাটতির রেকর্ড গড়েছে। ২০২০-২১ এর জন্য সরকার যে আর্থিক ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিল, প্রথম তিন মাসেই (এপ্রিল-জুন) তার ৮৩.২ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদী সরকার চলতি আর্থিক বছরে রাজকোষে ঘাটতির পরিমাণ GDP-র ৩.৫ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য স্থির করেছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে এই টার্গেট পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বছর কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ GDP-র ৭.৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে যা একপ্রকারের রেকর্ড।

চলতি বছর ভারতের GDP-র হার ৫.১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা আরও বেড়ে ৯.১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে রয়টার্সের বিশ্লেষকেরা । আর এই আশঙ্কা যদি ঠিক হয় তবে ১৯৭৯ সালের পরে আর কখনও ভারতীয় অর্থনীতির এমন অবস্থা হয়নি।

modi নরেন্দ্র মোদী

শুক্রবার প্রকাশিত একটি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জ্বালানির উপরে কর বৃদ্ধি করা হলেও জুন কোয়াটারে সরকারের আয় অনেক হ্রাস পেয়েছে। এপ্রিল থেকে জুন- এই তিন মাসে সরকারের আয় হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯-২০ আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের তুলনায় যা ৪৬ শতাংশেরও বেশি কম এই আয়ের পরিমাণ । ২০১৯-২০ এর এই সময়ে সরকারের আয় হয়েছিল ২ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা।

বিনামূল্যে খাদ্য শস্য বিলি ও লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার সাথে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্যে সরকারের খরচ বেড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর আগের বছরের তুলনায় এই বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে সরকারের খরচ ১৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। ২০১৯-২০ আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে সরকারের খরচ হয়েছিল ৭ লক্ষ ২২ হাজার কোটি টাকা এবং এই বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে এ ধাক্কায় বেড়ে হয়েছে ৮ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের আয় কমার প্রধান কারণ লকডাউন। সরকার আয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিলগ্নিকরণে পা বাড়ালেও তা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে কিন্তু আয়ের উদ্দেশে সরকার আবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রির ক্ষেত্রে ময়দানে নামবে বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি।

Related Articles

Back to top button